Showing posts with label শ্রী রাধা-কৃষ্ণ. Show all posts
Showing posts with label শ্রী রাধা-কৃষ্ণ. Show all posts

Saturday, October 28, 2017

রাধা-কৃষ্ণের প্রেম, সত্য না কল্পকাহিনী ?

(২৯ আগস্ট, ২০১৭ তারিখ নাকি রাধাষ্টমী, এই দিনেও কিছু নির্বোধ হিন্দু রাধার সাথে কৃষ্ণকে জড়িয়ে নাচানাচি করে কৃষ্ণনাম করার আড়াল কৃষ্ণের বদনাম করবে, আর মুসলমানদের হাতে কৃষ্ণের চরিত্র সম্পর্কে খারাপ কিছু বলার অস্ত্র তুলে দেবে। যারা কৃষ্ণের জন্মাষ্টমীর আদলে রাধাষ্টমী পালন করার পক্ষপাতী, তাদেরকে আমার এ্ই পোস্ট পড়ার জন্য অনুরোধ করছি, আর ভেবে দেখার অনুরোধ করছি, সত্যিই কৃষ্ণের জীবনে রাধা বলে কেউ ছিলো কি না ?)
PDF download

Friday, March 17, 2017

পাক প্রধানমন্ত্রীর সামনে হিন্দু মেয়ের গায়ত্রী মন্ত্র, তারপর কি হল জানেন ?

হোলির অনুষ্ঠান. আর সেখানে হাজির পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ. আর পাক প্রধানমন্ত্রীর সামনে একেবারে গায়ত্রী মন্ত্র উচ্চারণ করে বসলেন এক তরুণী.
ঘটনাস্থল, পাকিস্তানের করাচি. আর সেখানেই গত 15 মার্চ ছিল হোলির অনুষ্ঠান. আর সেই অনুষ্ঠানে গড়গড়িয়ে গায়ত্রী মন্ত্র পড়তে শোনা যায় নারদা মালিনী নামে এক তরুণীকে.

পাকিস্তানের মত রাজ্যে হিন্দু সংখ্যালঘুদের অনুষ্ঠানে হাজির হয়ে গায়ত্রী মন্ত্র কেমন লাগল, সে বিষয়ে কোনও মন্তব্য অবশ্য নওয়াজ শরিফ করেননি,


এদিকে, ভুবনেশ্বরে এক মুসলিম কিশোরী গীতা পাঠ করে সেরার শিরোপা অর্জন করে নিয়েছে. গত সপ্তাহে কেন্দ্রপাড়ার একটি মন্দির গীতার শ্লোক পাঠের একটি প্রতিযোগিতার আয়োজন করে. ফিরদৌস নাম লিখিয়েছিল সাব জুনিয়র গ্রুপে. এক মুসলিম শিশু যেহেতু এরকম একটি প্রতিযোগিতায় নাম লিখিয়েছে, তার জন্য কড়ানিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়.
প্রতিযোগিতার বিচারক অক্ষয় পানি সংবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন, ওই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য ফিরদৌসের পরিবারের কাছ থেকে লিখিত অনুমতি নেওয়া হয়েছিল. তিনি আরও জানিয়েছেন, যে ভাবে ফিরদৌসের অভিভাবক তাদের মেয়েকে সমর্থন করেছে তাতেও আমি অবাক.
যদিও, মেয়ের সাফল্যে ফিদৌসের মা আরিফা সংবাবাদ মাধ্যমে জানিয়েছেন, মেয়ের সাফল্যে তিনি খুশি. এর জন্য পুরো কৃতিত্ব অবশ্য ফিরদৌসের স্কুলের বলেও জানিয়েছেন আরিফা.

Wednesday, March 15, 2017

দোল বা হোলি উৎসব

দৈত্যরাজ হিরণ্যকিশপুর কাহিনিআমরা অনেকেই জানি.ভক্ত প্রহ্লাদ অসুর বংশে জন্ম নিয়েও পরম ধার্মিক
ছিলেন. তাঁকে যখন বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও হত্যা করা যাচ্ছিল না তখন হিরণ্যকিশপুর বোন হোলিকা প্রহ্লাদকে কোলে নিয়ে আগুলে প্রবেশের সিদ্ধান্ত নেন.

কারণ হোলিকা এই বর পেয়েছিল যে আগুনে তার কোন ক্ষতি হবে না. কিন্ত অন্যায় কাজে শক্তি প্রয়োগ করায় হোলিকা প্রহ্লাদকে নিয়ে আগুনে প্রবেশ করলে বিষ্ণুর কৃপায় প্রহ্লাদ অগ্নিকুণ্ড থেকেও অক্ষত থেকে যায় আর ক্ষমতার অপব্যবহারে হোলিকার বর নষ্ট হয়ে যায় এবং হোলিকা পুড়ে নিঃশেষ হয়ে যায়, এই থেকেই হোলি কথাটির উৎপত্তি.

অন্যদিকে বসন্তের পূর্ণিমার এই দিনে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ কেশি নামক অসুরকে বধ করেন. কোথাও কোথাও অরিষ্টাসুর নামক অসুর বধের কথাও আছে.
অন্যায়কারী, অত্যাচারী এই অসুরকে বধ করার পর
সকলে আনন্দ করে. এই অন্যায় শক্তিকে ধ্বংসের আনন্দ মহাআনন্দে পরিণত হয়. অঞ্চল ভেদে হোলি বা দোল উদযাপনের ভিন্ন ব্যাখ্যা কিংবা এর সঙ্গে সংপৃক্ত লোককথার ভিন্নতা থাকতে পারে কিন্ত উদযাপনের রীতি এক.



বাংলায় আমরা বলি 'দোলযাত্রা' আর পশ্চিম
ও মধ্যভারতে 'হোলি'.রঙ উৎসবের আগের দিন
'হোলিকা দহন' হয় অত্যন্ত ধুমধাম করে. শুকনো
গাছের ডাল, কাঠ ইত্যাদি দাহ্যবস্তু অনেক আগে
থেকে সংগ্রহ করে সু-উচ্চ একতা থাম বানিয়ে তাতে
অগ্নি সংযোগ করে 'হোলিকা দহন' হয়. পরের দিন রঙ
খেলা. বাংলাতেও দোলের
আগের দিন এইরকম হয় যদিও তার ব্যাপকতা কম
আমরা বলি 'চাঁচর'. এই চাঁচরেরও অন্যরকম ব্যাখ্যা আছে. দোল আমাদের ঋতুচক্রের শেষ উৎসব.

হিন্দু ধর্ম অনুসারে চারটি যুগ-সত্যযুগ, ত্রেতাযুগ,
দ্বাপরযুগ এবং কলিযুগ. বর্তমানে চলছে কলিযুগ. এর
আগের দ্বাপরযুগ থেকে শ্রীকৃষ্ণের দোলযাত্রা বা দোল উৎসব চলে আসছে. বলা হয়, শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটে ফাল্গুনী পূর্ণিমায়. আবার 1486 সালের এই পূর্ণিমা তিথিতেই শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু জন্মগ্রহণ করেন বলে একে গৌর-পূর্ণিমা নামেও অভিহিত করেন বৈষ্ণব বিশ্বাসীরা.

তবে এর মূল তাৎপর্য :::
রাধা-কৃষ্ণের সম্পর্কের উপাখ্যানে. ফাল্গুনী পূর্ণিমা তিথির এ দিনে বৃন্দাবনের নন্দন কাননে শ্রীকৃষ্ণ আবির ও গুলাল নিয়ে তাঁর সখী রাধা ও তেত্রিশ হাজার গোপীর সঙ্গে রঙ ছোড়াছুড়ির খেলায় মেতে ছিলেন. এর স্মরণে এ দিন সকালে ভগবানকৃষ্ণ ও রাধার বিগ্রহ আবির ও গুলালে স্নান করিয়ে দোলায় চড়িয়ে কীর্তন গান সহকারে শোভাযাত্রা বের করা হয়. এরপর কৃষ্ণভক্তরা আবির ও গুলাল নিয়ে পরস্পর রঙ খেলেন. এসব দিক থেকে দোল উৎসবকে দুইভাবে
দেখা যায়-
হিন্দুধর্মের পৌরাণিক উপাখ্যান ও শ্রীচৈতন্যের আবির্ভাব.

আর এভাবেই আমরা বছরের পর বছর অতিক্রম করে চলেছি 'দোল' উৎসব আর শ্রীমান মহাপ্রভুর জন্মতিথি বা গৌরপূর্ণিমা হিসাবে. পরমকরুনাময় গোলোকপতি সচ্চিদানন্দঘন ভগবান শ্রীকৃষ্ণ ও তাঁর একান্ত হ্লাদিনী শক্তি শ্রীরাধার চরণকমলে সবার মঙ্গলময়, কল্যাণময়, সুন্দরময় আর আনন্দময় জীবনের প্রার্থনা আমাদের.

পরমেশ্বর ভগবানের জন্ম-মৃত্যু নেই ,শ্রীকৃষ্ণের জন্ম-মৃত্যু লীলার তাৎপর্য কি ?ব্যাধের শরাঘাতে তার মৃত্যু হল কেন ?

★ভগবান তার ভক্তের প্রতিশ্রুতি, ভক্তের
মর্যাদা রক্ষা করবার উদ্দেশ্যে বিচিত্র অপ্রাকৃত লীলাবিলাস করে থাকেন। বহু জন্ম কঠোর তপস্যা করে ভগবানকে পুত্ররূপে লাভ করার বাসনা পূরণ করতে শ্রীকৃষ্ণ দেবকীয় গর্ভে জন্মলীলা প্রকাশ করলেন।
★শাম্ব ইত্যাদি কৃষ্ণের বংশধরদের মুনিঋষিগণ একবার অভিশাপ দিয়েছিলেন লৌহমুসল দ্বারা যদুবংশ ধ্বংস হবে। সেই অভিশাপ সত্য করার জন্য কৃষ্ণ যেহেতু মহাত্মা যদুর বংশে আর্বিভূত হয়েছিলেন তাই তিনিও
★সেই লৌহ অংশ দ্বারা নির্মিত বাণের আঘাতে মৃত্যু স্বীকার করেছিলেন। আর ব্যাধটি ছিল পূর্বকালে বালীপুত্র অঙ্গদ। রামের বাণের আঘাতে বাণী বধ হলেও অঙ্গদ রামের ভক্ত হয়েছিলেন। কিন্তু রামচন্দ্র বলেছিলেন পরবর্তীতে অঙ্গদের বাণের আঘাতে তিনি মৃত্যু বরণ করবেন। কৃষ্ণলীলায় তাই ব্যাধের বাণের আঘাতে কৃষ্ণ অপ্রকট লীলা করলেন।
ভগবানের লীলা বিলাস অপরূপ :

মায়ের গর্ভে আমরা কেমন ছিলাম

আমরা প্রতিটি মানুষ যখন মায়ের গর্ভে ছিলাম, প্রতিনিয়ত খুবেই কষ্ট ভোগ করেছিলাম । সেখানে ছিল অন্ধকার,ও কৃমি কিট।অসজ্য যন্ত্রণা সজ্য করতে না পেরে দিন রাত পরমেশ্বর ভগবান কে ডেকেছি।আর কেঁদে কেঁদে বলেছিলাম-

হে ভগবান তুমি আমাদের এ নরক কূন্ড থেকে উদ্ধার করে সংসার জগতে পাঠাও। সেখানে গিয়ে তোমার ভজনা করব ,তোমার নামগুনাগুন কীর্তন করব,আমি যা কিছু খাই-

তোমাকে নিবেদন করে খাব,আমার এ জীবন ও মন
সমস্ত কিছু 'তোমার চরনে সমর্পণ করবো।
আমাদের এ প্রার্থনায় তিনি তখন বাধ্য হয়ে
আমাদের এ সংসার জগতে পাঠান।

দশ মাস দশ দিন পর আমরা ভুমিস্ট হলাম ।কিন্তু
যখন আমরা একটু বুঝতে সিখলাম-তখন ভগবান কে
দেওয়া প্রতিশ্রুতি সমস্ত কিছু ভূলে গেলাম ।
শুরু হয়ে গেল -আমার মা,আমার বাবা,আমার
সংসার, আমার টাকা, আমার বাড়ি ।
ভগবান কে ভুলে গিয়ে এই তুচ্চ অনিত্ত সুখের জন্য, দিন রাত গাধার মতো পরিশ্রম করতে লাগলাম ।মিথ্যা
কথা ও পাপ কাজ আমাদের নিত্য সঙ্গী হলো।
ক্ষনিকের জন্য ও ভাবলাম না -এ জগতে আমরা
কেন এসেছি?কি আমার পরিচয়? মৃত্যু অন্যের
আমরা যাব কোথায় ?কি আমাদের অবশ্য কর্তব্য?
কেন এই সংসারে প্রতিনিয়তই দূঃখ,
কস্ট,জালা,যন্ত্রণা ভোগ করছি?

8400000 যোনি ভ্রমণ করার পর আমাদের এ সুদূর্লভ মানব জনম।শুধু এ মানব জনমে কেবলেই ভগবান কে লাভ করা যায় "আর অন্যান্য জন্মে তা সম্ভব নয়।
তাই সময় থাকতে আসুন আমরা ভগবানের চরনে আত্মা সমর্পন করি।তার নাম গুনাগুন কীর্তন করি।একাদশীর ব্রত পালন করি। জগতের সকল কর্ম- ভগবানের প্রৃতির উদ্দেশ্যে সম্পন্ন করি।

হরি কথা শ্রবণ ও হরি নামেই হয় যেন আমাদের একমাত্র সম্বল।

কৃষ্ণ শব্দটির অর্থ কি

যিনি জীবদের মায়ার কবল থেকে আকর্ষণ করে নিজ নিত্যদাস্যে নিয়োগ পূবর্ক পরমানন্দ প্রদান করেন, তিনিই কৃষ্ণ.শ্রীকৃষ্ণ হচ্ছেন পরমেশ্বর ভগবান, পরমব্রহ্ম. শ্রীকৃষ্ণই সকল সত্তার উৎস.

শ্রীকৃষ্ণই আদি, মধ্য এবং অন্ত্য. শ্রীকৃষ্ণই
অজাত, অজম. সবর্কারনের পরম কারণ.
শ্রীকৃষ্ণ পূর্ণ-পুর্নম. শ্রীকৃষ্ণ সকল ঐশ্বযর্পূর্ণ.
তাঁর মধ্যে সকল ঈশ্বর্য, পূর্ন সকল শ্রী- সকল বীর্য
সকল জ্ঞান সকল যশ -সকলবৈরাগ্য পূর্ণরূপে
বিরাজমান.শ্রীকৃষ্ণ চিৎ জগতের গোলক বৃন্দাবনে
স্বয়ং বিরাজমান.

গোলক বৃন্দাবন বেষ্টনকারী অন্তহীন চিৎজগতের
বৈকুন্ঠধামে শ্রীকৃষ্ণ চতুর্ভুজরূপী নারায়ন রূপে
বিরাজমান.

শ্রীকৃষ্ণ মহাবিষ্ণুরূপে নিজেকে বিস্তার করেন
এবং এই সীমাবদ্ধ জড়ো বিশ্বব্রহ্মান্ড সৃষ্টি
করেন. শ্রীকৃষ্ণ প্রতিটি ব্রহ্মান্ডে গর্ভোদকশায়ী বিষ্ণুরূপে প্রবেশ করেন এবং সেগুলিকে পরিচালনা করেন
শ্রীকৃষ্ণ প্রতিটি জীবসত্তা, জড়বস্তু, সক্রিয় কিংবা নিস্ক্রিয় শরীরে ক্ষীরোদকশায়ী বিষ্ণুরূপে প্রবেশ করেন এবংতাদের প্রতিপালন করেন.

যখন এবং যেখানে ধর্মীয় অনুশাসনের অধ: পতন ঘটে এবং অধর্মের অভূত্থান ঘটে ঠিক তখনি সাধুদের
পরিত্রান করার জন্য এবং দুস্কৃতিকারীদের
বিনাশ করার জন্য শ্রীকৃষ্ণ যুগে যুগে অবতীর্ণ হন.

শ্রীকৃষ্ণ ব্রহ্মার জীবনাবসানের একদিনে একবার বা প্রতি 860 কোটি বছর পর একবার আবির্ভূত হন :-)

কীর্তনে নৃত্য মাহাত্ম্য

"শ্রীশ্রী হরিভক্তিসুধোদয় গ্রন্থে উল্লেখ
রয়েছে--
বহুধোত্সার্যতে হর্ষাত্ বিষ্ণুভক্তস্য নৃত্যতঃ.
পদ্ভ্যাং ভূমোর্দিশোহক্ষিভ্যাং দোর্ভ্যাং বামঙ্গলং দিবঃ ..

'ভগবদভক্ত যখন উত্ফুল্ল হয়ে নৃত্য করেন তখন তাঁর
চরণ দ্বারা ধরণীর অমঙ্গল নষ্ট হয়. '' (হঃ ভঃ বিঃ 8/128)


আবার, শ্রীদ্বারকা মাহাত্ম্য শাস্ত্রে বলা হয়েছে ---

যো নৃত্যতি প্রহৃষ্টাত্মা ভাবৈর্বহুসুভক্তিতঃ.
স নির্দহতি পাপানি জন্মন্তরশতেষুপি ..

'' যিনি প্রফুল্ল মনে পরম ভক্তি সহকারে সযত্নে সমধিক
নৃত্য করেন, তাঁর শত শত জন্মের পাতক ভস্মীভূত হয় ..

ত্রিতাপ ক্লেশের সমাধান

পরমেশ্বর ভগবান শ্ৰীকৃষ্ণের নাম কীৰ্তনের প্রভাবে জীবের সকল দুঃখ, ত্রিতাপ ক্লেশ দুর হয়. আগে আমরা জানি ত্রিতাপ দুঃখ কি, যেমনঃ

1) আধিভৌতিক ক্লেশঃ অন্য কোন জীব হতে প্ৰাপ্ত দুঃখ- যেমন, মশার কামড়, সাপের কামড়, ডাকাতের বা সন্ত্ৰাসির ভয়, আত্মীয় - স্বজনের নিকট থেকে কষ্ট পাওয়া;

২) আধিদৈবিক ক্লেশঃ প্ৰকৃতিজাত দুঃখ- যেমন, বন্যা, খরা, দুৰ্ভিক্ষ, ভূমিকম্প, ঘুৰ্নিঝড় ও দুর্ঘটনা. একবার রোম সাম্রাজ্যের পম্পাই নগরীতে সংঘটিত এক অগ্নুৎপাতে প্ৰায় ২0,000 লোক ২0 ফুট লাভার নিচে নিমজ্জিত হয়, মাত্ৰ কয়েক মুহুর্তের জলোচচ্ছাসে 3,80,000 লোক প্ৰাণ হারায়;

3) আধ্যাত্মিক ক্লেশঃ দেহ ও মণ থেকে প্ৰাপ্ত দুঃখ, দেহ ও মণ অসংখ্য দুঃখের জন্ম দেয়. বিশ্ব স্বাস্থ সংস্থার জরিপ অনুসারে ২000 সালে আমেরিকার 1 কোটি 90 লক্ষ যুবক মানসিক রোগে আক্ৰান্ত হয়, দৈনিক 1২00 যুবক আত্ম হত্যার চেষ্টা করে এবং তাদের এক দশমাংশ মৃত্যুর কোলে ঢলে পরে. বৃদ্ধকালে ক্ষয়শীল জীর্নদেহ বিভিন্ন ক্লেশের জন্ম দেয়.

🌼ভগবান শ্রীকৃষ্ণ জন্ম, মৃত্য, জরা ও ব্যাধি সম্পন্ন এই,
জড়-জগতটাকে 'অশ্বাশতদুঃখালয়ম' দুঃখের সাগর বলেছেন.
অন্ধকুপ, সংসার দাবানলের সঙ্গে তুলনা করেছেন;
ভবসমুদ্রের সঙ্গে তুলনা করেছেন.

বনের দাবানল যেমন কেউ জ্বালিয়ে দেয় না, বাশে বাশে পরম্পর ঘৰ্ষনের ফলে আগুণ জুলে উঠে, তেমনি জীবের সংসার জ্বালাও দুর্বাসনার ঘাত প্ৰতিঘাতে হৃদয়ে জুলে উঠে.
মায়াবদ্ধ জীব ত্ৰিতাপ জ্বালায় দগ্ধীভূত হলেও কোন প্ৰতিকারের মাধ্যমে সে নিজে থেকে মুক্তি লাভ করতে পারে না.

প্রতিকার হল, মেঘের ভারী বৰ্ষন ছাড়া ভীষন দ্বাবানল যেমন নিবৃত্ত হয় না,
তেমনি গুরদেবের কৃপারুপ বারি ও নামসংকীৰ্তন রুপ মেঘের বৰ্ষন ছাড়া ত্ৰিতাপ দুঃখ নিবৃত্ত হবে না.

🌼সংসারে জীবকে আবদ্ধ করার মায়াদেবীর অস্ত্র হচ্ছে -

অবিদ্যা - মিথ্যাজ্ঞান বা অনিত্য বস্তুকে নিত্য বলে মনে করা;
অস্মিতা - মিথ্য অহংকার, আমি ও আমার করা;
রাগ - জড় সুখ লাভ ও বেশী পাওয়ার আশা.
যখন জীব তার পুর্ব জনমের সুকৃতি, সাধুসঙ্গের দ্বারা পরমেশ্বর ভগবান শ্রীকৃষ্ণের নামের ছায়াতলে আশ্রয় নেয় তখন মায়াদেবী সেই সন্তানকে ত্রিতাপ দুঃখ কষ্ট থেকে মুক্ত করে তার পরম পিতার আলয় ভগবদ্বামে পৌছে দেয়.
যেমন, তিনি বৃন্দাবনের গোপীদের বাঞ্ছাপুর্ন করেছিলেন .. হরেকৃষ্ণ ..

Wednesday, February 24, 2016

কেন সবাই রাধে রাধে বলে ?

একবার সব জায়গায় রাধারানীর স্তুতি শুনে দেবর্ষি নারদ মনে মনে ভাবতে লাগলেন , আমিও তো ভগবানের একনিষ্ঠ ভক্ত এবং উনাকে অগাধ প্রেম করি , তাহলে কেউ আমার নাম কেন নেয়না ?কেন সবাই রাধে রাধে বলে ?
নারদ জী উনার মনের এই ব্যথা নিয়ে একদিন ভগবান শ্রীকৃষ্ণের কাছে গেলেন । সেখানে উপস্থিত হয়ে দেখেন ভগবান প্রচন্ড মাথা ব্যথায় ছটফট করছেন । নারদ জী প্রনাম করে বলতে লাগলেন , " ভগবান এই মাথা ব্যথার কোন উপচার আছে কি ? যদি আমার রিদয়ের রক্ত দিয়ে ব্যথাকে শান্ত করা যায় , তাহলে আমি আমার বুক ছিড়ে রক্ত দান করতে পারি ।"
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বললেন , " তার কোন প্রয়োজন নাই নারদ । আমার যে কোন একজন ভক্ত যদি তার চরন ধূয়ে সেই চরনের জল অর্থাৎ ভক্তের চরনামৃত আমাকে সেবা করায় , তবেই আমার এই মাথা ব্যথা ভাল হবে ।"
নারদ জী ভাবতে লাগলেন , এ তো ঘোর অপরাধ হয়ে যাবে , ভক্তের চরন জল ভগবান সেবা করবে , এটা আমি পারবো না ।
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ নারদ জী কে প্রথমে রুক্মিনীর কাছে পাঠালেন । রুক্মিনী জী নারদের কথা শুনে আকাশ থেকে পরলেন । বললেন , হে মুনিবর , আপনি কি বলছেন এইসব ? আমি পারবো না আমার চরন জল ভগবান কে সেবা করাতে , তাহলে আমি নরকেও ঠাঁই পাবো না ।" নারদ জী ফিরে এলেন ভগবানের কাছে । এসে ভগবান কে সব বললেন । তখন ভগবান নারদ জী কে শ্রীমতি রাধারানীর কাছে পাঠালেন ।
নারদ জী শ্রীমতি রাধারানীর কাছে গিয়ে সব কথাই বললেন । রাধারানী সঙ্গে সঙ্গে একটি পাত্র নিয়ে আসলেন এবং নিজের চরন ধূয়ে সেই চরন জল নারদ জী কে দিয়ে বললেন , " হে মুনিবর , আমি জানি এটা খুবই অপরাধ মূলক কাজ , কিন্তু আমি আমার প্রিয়তমের কষ্টের লাঘব করার জন্য রৌরব নরকে অনন্তকাল যাতনা ভোগ করতেও রাজী আছি । আপনি তাড়াতাড়ি এই চরন জল নিয়ে যান এবং উনাকে সেবা করান । "

তখন দেবর্ষি নারদ বুঝতে পারলেন যে , কেন সবাই রাধে রাধে বলেন । নারদ জী সঙ্গে সঙ্গে শ্রীমতি রাধারানীর চরনে প্রনতি নিবেদন করে বলতে লাগলেন , " হে মাতা , এই জগতে আপনার মতো শ্রেষ্ঠ ভক্ত আর নাই । আমি এতদিন নিজেকে প্রভুর শ্রেষ্ঠ ভক্ত মনে করতাম , কিন্তু আজ বুঝতে পারলাম কেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আগে আপনাকে সবাই আরাধনা করে ।"

All throughout the Woodstock festival Krsna’s Village of Peace was teemi...

Sunday, October 4, 2015

ভগবান কৃষ্ণ যদি ঈশ্বরই হন তবে যুদ্ধক্ষেত্রে তাঁর কাজ কী?

এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে হয়তো আপনাদের অনেক দিন লেগেছে বা বহু বছর লেগেছে, আপনারা বিখ্যাত স্বামী যোগানন্দের ভগবদগীতা থেকে এই উত্তর পেতে পারেন. ব্যাপারটি এমন যে ____

আমাদের দেহটি হল একটি রথ যারউপর আত্মারূপী আমরা আসীন, আর আমাদের জীবনটি একটি যুদ্ধক্ষেত্র কুরুক্ষেত্রের মতই. আর আমাদের কামনা, বাসনাদি রিপু গুলো হল এই রথের চালক অশ্বগুলো. আমাদেরকে এই অশ্বসদৃশ রিপু গুলোকে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে. আর এই কাজে আমাদের পথ প্রদর্শক হবেন স্বয়ং ভগবান শ্রী কৃষ্ণ. কিন্তু তার জন্য রথের সারথি রূপে অর্জুন যেমন শ্রী কৃষ্ণকে প্রার্থনা করেছেন তেমনি আমাদেরও তাকে ডাকতে হবে. এই জন্যই আমরা বলি-
.
হরে কৃষ্ণ. অর্থাৎ, হে কৃষ্ণ এসো, আমাদের রথের হাল ধর. আমাদের পথ দেখাও. নচেৎ, আমাদের রথ এই জীবন রুপী যুদ্ধক্ষেত্রে পথভ্রষ্ট হয়ে, আমাদের পতনের কারণ হবে. "" "" "
.
এই অত্যন্ত গুঢ় কথা গুলোর সাথে আমি একমত. তবে এগুলো আমার কথা নয়. এগুলো সর্বকালের শ্রেষ্ঠ্য জনপ্রিয় ব্যান্ড দ্যা বিটল্সের (দ্য বিট্লস) শিল্পী ব্রিটেনের সর্বোচ্চ সংগীত খেতাব এমইবি অর্জনকারী ও সনাতন ধর্মে দীক্ষিত # জর্জ হ্যারিসন-এর কথা.

Friday, September 18, 2015

জন্মাষ্টমী উপবাসের নিয়মঃ-


সবাইকে জন্মাষ্টমীর অগ্রিম শুভেচ্ছা জানিয়ে আজকের পোস্ট শুরু করছি।

এই বিশেষ দিনে আমরা অনেকেই নিজ গৃহে অথবা মন্দিরে গোপাল পুজা করি, শ্রীকৃষ্ণের কৃপা লাভের উদ্দেশে উপবাস রেখে থাকি। উপবাসের বেশ কিছু নিয়ম আমরা অনেকেই জানিনা।উপবাসের আগের দিন, উপবাসের পরের দিন ওঁ
উপবাসের দিন বেশ কিছু নিয়ম পালিন করতে হয়।

 উপবাসের পূর্বদিনের করনীয়ঃ

*গৃহের রান্নাঘর পরিষ্কার করে চুলা ধুতে হবে

* নিরামিষ ভোজন করতে হবে

*একবেলা অন্নগ্রহন করতে হবে, এতে অসমর্থ হলে নিরামিষ ভোজন যথেষ্ট

*সহবাস নিষিদ্ধ উপবাসের দিন

*সকালে উঠে স্নান করে পরিষ্কার ও ধোয়া কাপড় পরতে হবে

*তেল মাখা, দিবা নিদ্রা, সহবাস, পাশা খেলা/জুয়া খেলা, নেশা করা, বিলাসি বেশ ভূষা সম্পূর্ণবর্জনীয়

*সম্পুর্ন উপবাস না করতে পারলে দুধ, জল,ফল-মুল, মধু, ওষুধ খাওয়া যেতে পারে

*হরিনাম সংকীতন উপবাসের পরের দিন/পারন দিন দিনে ২বার অন্ন গ্রহন, আমিষ গ্রহন, সহবাস,
দিবা নিদ্রা, দুর পথে যাত্রা, পরের অন্ন ভজন (অর্থাৎ যারা পুজা করেনি, তাদের অন্ন গ্রহন/ নেমন্তন্ন ভোজন) শাস্ত্র বিরুদ্ধ

ভগবানের কৃপায় আমরা যাতে সকলে সুন্দর ভাবে জন্মাষ্টমী পালন করতে পারি, এই কামনা করি। শ্রীকৃষ্ণের আশির্বাদ আমাদের সকলের উপর বর্ষীত হোক।
জয় শ্রী কৃষ্ণ...............

শ্রীকৃষ্ণের চরণাশ্রয়



এক গ্রামে স্বামী ও স্ত্রী দুইজন সুখ-স্বাচ্ছন্দে বাস করতে থাকে। তাদের একটি পুত্র সন্তান হয়। পুত্রটি প্রাণধন হিসেবে লালন পালন হতে তাকে। একদিন সকালবেলা এক বাঁদর খেলোয়াড় দুইটি বাঁদর নিয়ে খেলা দেখিয়ে পয়সা উপার্জন করতে যাচ্ছে। ভদ্রলোক বাঁদরওয়ালাকে ডেকে বললেন-“ভাই! তুমি প্রতিদিন খেলা দেখিতে কত করে টাকা পাও? বাঁদরওয়ালা বলল- “কুড়ি, পঁচিশ টাকা হয়। ভদ্রলোক বললেন- “এসো, আমাদের ছেলেকে তুমি সারাদিন খেলা দেখাবে এবং সন্ধ্যাবেলায় তোমার মজুরি নিয়ে চলে যাবে।” ভদ্রলোকের কথামতো লোকটি বাঁদর নিয়ে বাড়িতে ঢুকল। বাঁদর দেখে ছেলেটির খুব আনন্দ হল। লোকটি খেলা দেখাতে আরম্ভ করল।
ছেলেটি বাঁদর দেখে ছুটে এল এবং সারাদিন বাঁদরের সঙ্গে খেলতে লাগল। এইভাবে খেলতে খেলতে সন্ধ্যা হয়ে আসলে বাঁদরওয়ালা তার মজুরী নিয়ে চলে গেল। তারপর পরিশ্রান্ত ছেলেকে মা স্নান করিয়ে খাওয়ার ব্যবস্থা করলেন। খাওয়ার পর ছেলেটি বিশ্রাম করল। পরে স্বামী-স্ত্রী দুইজন খাওয়া-দাওয়া করে বিশ্রাম করলেন। রাত যখন দুটো, সেই সময় ছেলের ঘুম ভেঙ্গে গেল। ছেলেটি কান্না শুরু করে এক বায়না ধরল,-“আমি বাঁদর খেলা দেখব।” তার মা যথাসাধ্য চেষ্টা করলেন তাকে সান্ত্বনা দেবার জন্য। কিন্তু সে শান্ত হচ্ছে না দেখে স্বামীকে ডাকলেন-“ ও গো! দেখ গো! তোমার ছেলের অবস্থা দেখ। ও গো! ওঠো না গো। ছেলেটি কি কান্নাই না কাঁদছে। দম আটকে গেলে তুমি কি শুনতে পাচ্ছ না?” তখন তার বাবা উঠে মাকে বললেন- “ওগো! তুমি তো মা। তুমি ওকে শান্ত করতে না পারলে আমি কি করব?” ছেলেটির মা বললেন- “ওগো! তুমি ওঠো না গো। ছেলেকে দেখ না গো।” ভদ্রলোক বললেন- “ও কি বলছে” ওর মা বললেন,- “এখনও বাঁদর খেলা দেখবে।” ভদ্রলোক বললেন- “মহা মুশকিল। এই রাত্রিতে তোমাকে কোথা থেকে বাঁদর খেলা দেখাব। কাল সকালে তোমাকে বাঁদর খেলা দেখাব।” কিন্তু ছেলেটি কিছুতেই শান্ত হচ্ছে না। ভদ্রলোকের স্ত্রী বললেন-“ওগো, তুমি বাঁদর সাজো না। তোমায় গলায় দড়ি দিয়ে আমি লাঠি দেখাব। আর তুমি খেলবে। তাহলে ছেলে নিশ্চয়ই চুপ করবে। ভদ্রলোক মনে করলেন-“বাঃ এই কথাটিই ঠিক”- ভেবে নিয়ে স্ত্রীর কথায় তিনি বাঁদরের মতো সাজলেন। ভদ্রমহিলা তার গলায় দড়ি দিয়ে লাঠি দেখাতে লাগলেন এবং ভদ্রলোক বাঁদরের মতো চেয়ার-টেবিলের উপর লাফিয়ে খেলা দেখাতে লাগলেন। এই দৃশ্য দেখে মহানন্দে ছেলেটি হাততালি দিয়ে হাসতে লাগল।
। হিতোপদেশ।
“কৃষ্ণ বহির্মুখ হইয়া ভোগবাঞ্ছা করে।
নিকটস্থ মায়া তারা জাপটিয়া ধরে।।
পিশাচী পাইলে যেন মতিচ্ছন্ন হয়।
মায়াগ্রস্থ জীবের হয় সে ভাব উদয়।।

এই জগতে জীবসকল মায়ায় আবদ্ধ হয়ে মায়ার দাসত্ব করে চলেছে। অন্যের অসৎ কথায় কোন বিচার না করে মেনে নিয়ে সুদুর্লভ জীবনকে নষ্ট করতে বসেছে। আমরা মদখোরের কথা মতো মদখোর হতে পারি, গাঁজাখোরের কথা শুনে গাঁজাখোর হতে পারি, চোরের কথা শুনে চুরি করতে পারি, স্ত্রীর কথা শুনে বাঁদর সাজতে পারি, কিন্তু এমনই দুর্দ্দৈব যে, সাধুর কথায় আমরা সৎ পথ অবলম্বন করে সাধু হতে পারি না?

Friday, September 11, 2015

প্রশ্নঃ শ্রীমদ্ভাগবতে রাধার নাম নাই কেন? তাহলে রাধা এলো কোত্থেকে? কোন কোন শাস্ত্রে রাধার নামোল্লেখ আছে।

উত্তরঃ রাধাদ্যাঃ পূর্ণ্যা শক্তয়ঃ - শ্রুতি প্রমাণে আদ্যশক্তি রাধা। এবং রাধাই পূর্ণ শক্তি। আর শ্রীকৃষ্ণপূর্ণ শক্তিমান।

রাধা-কৃষ্ণই। কৃষ্ণই রাধা। রাধায়া মাধবো দেবো মাধবে নৈব রাধিকা' - ঋক পরিশিষ্ট বাক্য। রাধাকৃষ্ণ ঐছে সদা একই স্বরূপ। লীলারস আস্বাদিতে ধরে দুইরূপ।। রাধাকৃষ্ণাত্মিকা। আর কৃষ্ণও রাধাত্মিকা। রাধা শ্রীকৃষ্ণের প্রাণের প্রাণ। হৃদয় কন্দর। মানস সরোবর। বিধায় কৃষ্ণ যেখানে দিপ্তমান তাঁর প্রাণস্বরূপ রাধাও সেখানে বর্তমান। ভাগবতে প্রকাশ্যভাবে রাধানমোল্লেখ না থাকলেও মূলতঃ রাধাকৃষ্ণ নিয়েই ভাগবত। প্রাণ ছাড়া দেহ বিকল। অতএব রাধাই ভাগবতের প্রাণ। এবং শ্রীকৃষ্ণের প্রাণের প্রাণ। আর একটি বিষয় তা হল, শ্রীল শুকদেব গোস্বামী প্রভুপাদ পরম শ্রদ্ধা ও সম্ভ্রমভরে রাধানাম ভাগবত আলোচনায় উল্লেখ করেননি। তাই দৃশ্যভাবে ভাগবতে রাধানামাক্ষর দুটি নেই। তবে দক্ষতার সহিত কৌশলে ভাগবতে রাধার নাম প্রকাশ করেছেন। রাসলীলার বর্ণনায় আমরা দেখতে পাই কোন সৌভাগ্যশালিনী ভাগ্যবতী বিশেষ গোপী, প্রিয়তমা প্রধানা গোপীকে সাথে নিয়ে শ্রীকৃষ্ণ অন্যান্য গোপীদের অন্তরালে নিভৃতে বিবিধলীলা বিলাস করেছিলেন। তখন বুঝতে কষ্ট হয় না যে শ্রীকৃষ্ণ যাকে নিয়ে গোপনে বিহার করছেন তিনিই শ্রীকৃষ্ণবক্ষ বিলাসিনী রাস রাসেশ্বরী রাধা ঠাকুরাণী। শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভুর রাধাবিরহ প্রসঙ্গে বৈষ্ণব কবি লিখেছেন, 'রাধানাম জপে গোরা পরম যতনে।' ভাগবতের 'অনয়ারাধিতো নূনং ভগবান, এই শ্লোকের বৈষ্ণব তোষনী টীকায় শ্রীল সনাতন গোস্বামী 'অনয়ারাধিতঃ' বাক্যের মধ্যেই শ্রীমতি রাধাকে দর্শন করেছেন। রাধেতি নামকরণঞ্চ দর্শিতং। উত্তরকালে চৈতন্যচরিতামৃতকার শ্রীল কৃষ্ণদাস কবিরাজ জানায়েছেন- কৃষ্ণবাঞ্ছা পূর্তিরূপ করে আরাধনে। অতএব রাধিকা নাম পুরাণে বাখানে।। লীলাশুক শ্রীবিল্বমঙ্গল ঠাকুর তাঁর 'কৃষ্ণকর্ণামৃত' গ্রন্থের (শ্লোক ৭৬, ১০৭) দুটি পদে রাধা নামের স্পষ্ট উল্লেখ করেছেন। অন্যত্র উল্লেখ না থাকলেও ব্রজেশ্বরী রাই কিশোরী-রাধাকে লক্ষ্য করেই তা রচিত এটা নিশ্চিত। পরবর্তীতে উক্ত গ্রন্থের 'সারঙ্গরঙ্গদা' নাম্নী টীকা প্রদানকালে শ্রীল কবিরাজ মহাশয় রাধানামের বিস্তৃতি ঘটিয়েছেন। ব্রহ্মবৈবর্তপুরাণ এবং পদ্মপুরাণের নানাস্থানে রাধানামোল্লেখ আছে। মৎসপুরাণ (রুক্মিনী দ্বারাবত্যাং তু রাধা বৃন্দাবনে), বায়ুপুরাণ(রাধা-বিলাস- রসিকং), বিষ্ণুপুরাণে ১/৮/১৫ শ্লোক এবং বরাহপুরাণেও (তত্র রাধা সমাশ্লিষ্য) রাধাকে দেখতে পাই। এমনকি ঋকবেদেও (১/২২/৭-৮, ৮/৪৫/২৪) রাধা, রাধস, গোপী শব্দের স্পষ্ট উল্লেখ আছে। সামবেদেও শ্রীরাধার সহস্ত্র নাম আছে। তন্মধ্যে ষোড়ষনাম প্রধান। অথর্ববেদ এবং অথর্ববেদ অন্তর্গত পুরুষবোধিনী শ্রুতি(রাধা যস্যা), গোপালতাপনীশ্রুতি, গৌতমীয় তন্ত্র (রাধিকা পরদেবতা), তৈত্তরীয় উপনিষদ, রাধাতন্ত্র এবং নারদপঞ্চরাত্রেও (জগন্মাতা চ রাধিকা) রাধানাম বিধৃত আছে। এছাড়া কাব্য-সাহিত্য, নাটক, কবিতা, গীতি, পদাবলী এবং সর্বোপরি বৈষ্ণবাচার্যদের টীকা টিপ্পনীর ভিতর বহুতর রাধাপ্রসঙ্গ উত্থাপিত হয়েছে। রাধা বৈষ্ণব সাহিত্য জগতের প্রেমভক্তি সাধনার অনুপম সরণি। উত্তরের পরিসীমা না বাড়িয়ে বিরতির পূর্বে একথা বলতে পারি যে, শ্রীমদ্ভাগবতে শ্রীরাধানামের স্পষ্ট উল্লেখ না থাকলেও স্মৃতি, শ্রুতি, পুরাণাদি, পঞ্চরাত্র ইত্যাদি মহান গ্রন্থরাজীতে রাধানাম বর্ণাঢ্যভাবে বর্ণিত হয়েছে। [গ্রন্থঃ জীবন তরী চলার পথে ২১০-২১১]

Tuesday, October 21, 2014

শ্রীকৃষ্ণ যে ৮ বছর বয়সে রাস নৃত্যে অংশগ্রহণ করেন

বলা হয়ে থাকে যে শ্রীকৃষ্ণ 8 বছর বয়সে রাস নৃত্যে অংশগ্রহণ করেন. শ্রীকৃষ্ণ যখন শরতের পূর্ণিমার রাত পর্যবেক্ষণ করলেন, তখন সেই রাত অনেক সুগন্ধিজুক্ত ফুল দ্বারা মোহিত ছিল, বিশেষত মল্লিকা ফুল দ্বারা.ভগবান শ্রীকৃষ্ণ গোপীদের প্রার্থনা স্মরণ করলেন. গোপীরা দেবী কাত্যায়ীনির নিকট ভগবান শ্রীকৃষ্ণকে স্বামী হিসেবে পাওয়ার প্রার্থনা করছিলেন.ভগবান শ্রীকৃষ্ণ মনে করলেন যে শরতের পূর্ণিমার রাত রাস নৃত্যের জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত. ভগবান মনে করলেন গোপীদের ইচ্ছা পূরণ করার উপযুক্ত সময়ও এটি.
ভগবান শ্রীকৃষ্ণ তার মধুর বাঁশির সুরে গোপীদের মোহিত করলেন. গোপীরা তাদের ঘর ছেড়ে, তাদের স্বামীকে ছেড়ে শ্রীকৃষ্ণের উদ্দেশ্যে গমন করলেন. শ্রীকৃষ্ণ তাদের বললেন, "তোমরা এত রাতে এখানে কেন এসেছ? তোমরা কি জাননা যে এই বন হিংস্র জন্তু দ্বারা পরিপূর্ণ? তোমাদের স্বামীরা এবং সন্তানেরা এখনি তোমাদের খোঁজে আসবে এবং তোমাদের এখান থেকে নিয়ে যেয়ে সংসারিক কাজকর্মে নিয়োজিত করবে? একজন বিবাহিত নারীর অন্য পুরুষের প্রতি আকর্ষণ অবৈধ এবং এটি স্বর্গ প্রাপ্তির পথে অন্তরায়. কিন্তু
ভগবানের ভক্তরা তার প্রতি যে প্রেম, ভালবাসা প্রদর্শন করে সেটি অবশ্যই স্বর্গীয় এবং জড় কলুষ মুক্ত.ভগবান বললেন, আমার ভক্তরা আমাকে বিগ্রহ হিসেবে মন্দিরে পূজা করে, আমার গুণকীর্তন করে, আমার সম্পর্কে শ্রবণ, কীর্তন করে আমার প্রতি ভক্তি প্রদর্শন করে. সুতরাং তোমরা নিজেদের বাড়ি ফিরে যাও. গোপীরা এ কথা শুনে রাগান্বিত হয়ে উত্তর দিল, "এটা খুব অন্যায় যে আমরা যারা নিজেদের ঘর ছেড়ে তোমাকে সেবা করার জন্য ছুটে এসেছি তাদের তুমি বঞ্চিত করছ. এমন কোন নারী আছে যে তোমার বাঁশির সুর শুনে তাদের কর্মকাণ্ড ভুলে তোমার কাছে ছুটে আসবে না? তোমার রূপমাধুরী দর্শন করে ত্রিভুবন মোহিত হয়.ঠিক যেমন ভগবান বিষ্ণু দেবতাদের রক্ষা করে তেমনি তুমি বৃন্দাবনের সকলের
দুঃখ দূর করে দাও. সুতরাং তোমা থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার কারণে আমরা যে নিদারুন যন্ত্রণা ভোগ করছি তা থেকে আমাদের অতি শীঘ্র মুক্ত করে দাও. ভগবান শ্রীকৃষ্ণ গোপীদের আর্তি শুনে তাদের সাথে রাস নৃত্যে অংশগ্রহণ করলেন.কিন্তু ভগবান যখন গোপীদের সন্তুষ্ট দেখলেন তখন তিনি সেখান থেকে অন্তর্হিত হয়ে গেলেন.
হরে কৃষ্ণ.

ভগবান শ্রীকৃষ্ণের এই রাস লীলাকে যারা নষ্ট মন মানসিকতা নিয়ে বিচার করে তাদের নরকের দুঃসহ যন্ত্রণা ভোগ করতে হবে. তারা কোনদিন মুক্তি পাবে না, এবং তারা সকল প্রকার দেব দেবীর আশীর্বাদ থেকে বঞ্চিত হবে.

বেদ ও শ্রীকৃষ্ণ

বেদ শব্দের অর্থ জ্ঞান এবং সেটি ভগবান থেকে প্রকাশিত হচ্ছে. বেদ শাশ্বত ও অপৌরুষেয় ঃ পরম জ্ঞান নিত্য ও কোন মানুষের রচিত নয়. শাস্ত্রীয় ইতিহাস অনুসারে, সৃষ্টির আদিতে ব্রক্ষ্মান্ডের প্রথম জীব স্বয়ম্ভু ব্রক্ষ্মা এই বেদ-জ্ঞান লাভ করেন ভগবান শ্রীকৃষ্ণর নিকট থেকে, তার বেণুধ্বনির মাধ্যমে

যো ব্রক্ষ্মাণং বিদধাতি পূর্ব্বং যো বৈ
বেদাংশ্চ গাপয়তি স্ম কৃষ্ণঃ. (- 1/২4 গোপালতাপনী উপনিষদ)
"যিনি সৃষ্টির আদিতে ব্রক্ষ্মাকে বৈদিক জ্ঞান উপদেশ করেছিলেন এবং পূর্বে বৈদিক জ্ঞান বিস্তার করেন, তিনি শ্রীকৃষ্ণই."

ব্রক্ষ্মসংহিতায় শ্রীকৃষ্ণকে বেদের সারসত্য বলে উল্লেখ করা হয়েছে (তুষ্টাব বেদসারেণ স্তোত্রেণানেন কেশবম - 5/২8). বেদ অনুসারে, ব্রক্ষ্মা ভগবান শ্রীবিষ্ণু হতে উদ্ভূত, আর শ্রীকৃষ্ণ শ্রীবিষ্ণুরও উৎস. জড় জগতে ভগবানের তিনটি পুরুষাবতার - বিষ্ণুরূপ প্রকাশিতঃ

(1) প্রথম পুরুষাবতারঃ কারণোদকশায়ী বিষ্ণু বা মহাবিষ্ণু - কারণ-উদক সাগরে (কার্যকারণ মহাসাগর) শায়িত এই মহাবিষ্ণুর বিরাট শরীর থেকে কোটি কোটি ব্রক্ষ্মান্ড (universes এর ক্লাস্টার) প্রকাশিত হয়, মহাপ্রলয়ে (অবলুপ্তি) সমস্ত জড় ব্রক্ষ্মান্ডগুলি ধ্বংস হয়ে সূক্ষ্ম জড় উপাদনরূপে (মহত্তত্ব) তাঁর দিব্য শরীরে বিলীন হয়.

(২) দ্বিতীয় পুরুষাবতারঃ গর্ভোদকশায়ী বিষ্ণু - মহাবিষ্ণু নিজেকে কোটি কোটি রূপে বিস্তার করে প্রতিটি ব্রক্ষ্মান্ডে প্রবেশ করে ব্রক্ষ্মান্ডের গর্ভোদকে শয়ন করেন. তারপর ব্রক্ষ্মাকে সৃষ্টি করেন. ব্রক্ষ্মার মাধ্যমে সূর্য ও চতুর্দশ ভুবন বা গ্রহলোকসমূহ (গ্রহ সিস্টেম) সৃষ্টি করেন.

(3) তৃতীয় পুরুষাবতারঃ - ক্ষীরোদকশায়ী বিষ্ণু - প্রতি ব্রক্ষ্মান্ডে শ্রীবিষ্ণু নিজেকে অসংখ্য রূপে বিস্তার করে করে জীবসত্তাকে ভগবদধামে ফিরে আসতে সাহায্য করার জন্য প্রত্যেক জীব হৃদয়ে পরমাত্মারূপে অবস্থান করেন.

এইভাবে, কোটি কোটি, অসংখ্য অনন্তরূপে ভগবান নিজেকে বিস্তার করেন, কিন্তু তিনি 'অদ্বৈতম' (অ দ্বৈত) তিনি এক ও অভিন্ন এবং সকল রূপের পরম উৎস শ্রীকৃষ্ণ স্বরূপ, এটিই বৈদিক শাস্ত্রের সিধান্ত. ব্রক্ষ্মসংহিতায় বলা হয়েছে (5/33) -
অদ্বৈতম-অচ্যুতম-অনাদিম-অনন্তরূপম
আদ্যং পুরাণপুরুষং নবযৌবনঞ্চ.
বেদেষু দুর্লভম-অদুর্লভম-আত্মভক্তৌ
গোবিন্দম-আদি পুরুষং তমহং ভজামি ..
"যিনি অদ্বৈত, অচ্যুত, অনাদি, অনন্তরূপসম্পন্ন, আদি পুরাণপুরুষ হয়েও নিত্যনবনবায়মান যৌবনসম্পন্ন সুন্দর পুরুষ, বেদাদি শাস্ত্র পাঠে দুর্লভ কিন্তু শুদ্ধ আত্মভক্তির লভ্য, সেই আদিপুরুষ গোবিন্দকে আমি ভজনা করি."

বেদে সর্বদেবতার উপাস্য ভগবান রূপে শ্রীবিষ্ণুকে স্তুতি করা হয়েছে, যেমন ঋগবেদে (1/২২/২0) বলা হয়েছে -
ওঁ তদবিষ্ণোঃ পরমং পদং সদা
পশ্যন্তি সূরয়ো দিবীব চক্ষুরাততম.
তদবিপ্রাসো বিপন্যবো জাগৃবাংষঃ
সমিন্ধতে বিষ্ণোর্যৎ পরমং পদম ..
"পরমেশ্বর বিষ্ণুই হচ্ছেন পরম সত্য. সুরগন তাঁর পাদপদ্ম দর্শনে সর্বদাই উদগ্রীব. সূর্যের মতোই ভগবান তাঁর শক্তিরশ্মির বিস্তার করে সর্বত্র ব্যাপ্ত আছেন. "

ঋগবেদে 1/২২/17, 1/২২/18, 1/154/1, 1/15২/২, 1/154/3​​, 1/154/4, 1/154/6 নং মন্ত্রে বিষ্ণুর কথা বলা হয়েছে.

অথর্ববেদে বলা হয়েছে, যো ব্রক্ষ্মাণং বিদধাতি পূর্বং যো বৈ বেদাংশ্চ গাপয়তি স্ম কৃষ্ণঃ. অর্থাৎ - "ব্রক্ষ্মা, যিনি পূর্বকালে জগতে বৈদিক জ্ঞান প্রদান করেন, সেই জ্ঞান তিনি সৃষ্টির আদিতে যাঁর কাছ থেকে প্রাপ্ত হন তিনি হচ্ছেন শ্রীকৃষ্ণ."

শ্রীবিষ্ণু শ্রীকৃষ্ণেরই প্রকাশ বা বিস্তার, শাস্ত্রের সিধান্ত, যেমন সকল বেদ উপনিষদের সার গীতোপনিষদ, ভগবদগীতায় শ্রীকৃষ্ণকে বিষ্ণু বলে সম্বোধন করা হয়েছে - শমং চ বিষ্ণো (11/২4), প্রতপন্তি বিষ্ণো - (11/30), আদিত্যানাম অহং বিষ্ণু (10/২1) ইত্যাদি. শ্রীকৃষ্ণই শ্রীবিষ্ণুরূপে সর্বজীবের অন্তরস্থিত পরমাত্মা - অহমাত্মা গূঢ়াকেশ সর্বভূতাশয়স্থিতঃ (10/২0). বিষ্ণুমূর্তি-সমূহ, রাম-নৃসিংহ ইত্যাদি অবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণরই প্রকাশ, অংশ, কলা. শ্রীকৃষ্ণই স্বয়ং ভগবান (এতে চাংশ কলাঃ পুংসঃ কৃষ্ণস্ত ভগবান স্বয়ম - ভাগবতম 1/3/২8). ভগবান শ্রীকৃষ্ণ পূর্ণপরাৎপর পুরুষ, সেজন্য তাঁর থেকে অসংখ্য ভগবৎ-রূপ বিস্তার হলেও তিনি তাঁর পূর্ণস্বরূপে নিত্যবিরাজমান. শ্রীঈশোপনিষদে যেমন বলা হয়েছে (1 আবাহন)
ওঁ পূর্ণমদঃ পূর্ণমিদং পূর্ণাৎ পূর্ণাৎ পূর্ণমুদচ্যতে.
পূর্ণস্য পূর্ণমাদায় পূর্ণমেবাবশিষ্যতে ..
"পরমেশ্বর ভগবান সর্বতোভাবে পূর্ণ. তিনি সম্পূর্ণভাবে পূর্ণ বলে এই দৃশ্যমান জগতের মতো তাঁর থেকে উদ্ভূত সব কিছুই সর্বতোভাবে পূর্ণ. যা কিছু পরম পূর্ণ থেকে উদ্ভূত হয়েছে তা সবই পূর্ণ. কিন্তু যেহেতু তিনি হচ্ছেন পরম পূর্ণ, তাই তাঁর থেকে অসংখ্য অখন্ড ও পূর্ণ সত্তা বিনির্গত হলেও তিনি পূর্ণরূপেই অবশিষ্ট থাকেন. "

ভগবদগীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণর কয়েকটি উক্তি

বেদ্যং পবিত্রং ওঙ্কার - 9/17 - আমাকে পবিত্র ওঙ্কার বলে জানবে.

প্রণবঃ সর্ববেদেষু - 7/8 - সমস্ত বেদে উল্লেখিত প্রণব (ভগবানের নির্বিশেষ নাম) আমিই.

বেদে চ প্রথিতঃ পুরুষোত্তম - 15/18 - বেদে আমি পুরুষোত্তম নামে খ্যাত

বেদানং সামবেদোহস্মি - 10/২২ - সমস্ত বেদের মধ্যে আমি সামবেদ

ঋক সাম যজুরেব চ - 9/17 - ঋক, সাম, যজুর্বেদাদিও আমি

বৃহৎসাম তথা সাম্নাং গায়েত্রী ছন্দসামহম - 10/35 - আমি সামবেদের মধ্যে বৃহৎসাম, সমস্ত ছন্দের মধ্যে গায়েত্রী.

অহং হি সর্বযজ্ঞানাং ভোক্তা চ প্রভুরেব চ - 9/২4 - আমি সমস্ত যজ্ঞের ভোক্তা, প্রভু.

ভগবান শ্রীকৃষ্ণ আরও বিপ্লবাত্মক কথা বলেছেন - তিনি বলেন (গীতা ২/4২)
"বিবেকবর্জিত লোকেরাই বেদের পুষ্পিত বাক্যে আসক্ত হয়ে স্বর্গসুখ ভোগ, উচ্চকুলে জন্ম, ক্ষমতা লাভ-আদি সকাম কর্মকেই জীবনের চরম উদ্দেশ্য বলে মনে করে. ইন্দ্রিয়সুখ ভোগ ও ঐশ্বর্যের প্রতি আকৃষ্ট হয়ে তারা বলে যে, তার ঊধ্বে আর কিছুই নেই. "

ভগবদগীতাকে সমস্ত বেদ-উপনিষদের সার-নির্যাস বলা হয় (সর্বোপনিষদোগাবো). ভগবান শ্রীকৃষ্ণর উক্তি ও ভগবদগীতার তথ্যের সাথে বেদ-উপনিষদের মৌল তত্ত্বের সুস্পষ্ট সামঞ্জস্য রয়েছে. নিম্নে কিছু সাদৃশ্য লক্ষ্য করুন -
1. ভগবদগীতা - 8/9 নং শ্লোক ও 13/18 নং শ্লোক আর শ্বেতাশ্বতর উপনিষদের (3/8) নং শ্লোক একই
২. গীতার 15/14 নং শ্লোক আর বৃহদারণ্যক উপনিষদ 5/9/1 নং শ্লোক একই.
3. গীতার 9/10 নং শ্লোক আর ঐতরেয় উপনিষদ 3/11 নং শ্লোক এক.
4. গীতার 15/18 নং শ্লোক আর ছান্দোগ্য উপনিষদ 8/1২/13 নং শ্লোকে একই কথা বলা হয়েছে.
5. গীতার 7/২ নং শ্লোক আর মুন্ডক উপনিষদ 1/3 নং শ্লোকে একই কথা বলা হয়েছে.
6. গীতার 10/২ নং শ্লোক আর শ্বেতাশ্বতর উপনিষদ 6 / 7-8 নং শ্লোক একই.
7. গীতার ২/২0 নং শ্লোক আর কঠোপনিষদ 1/২/18 নং শ্লোক একই.
(সংক্ষিপ্ত)

কৃষ্ণই ভগবান। তবুও মন্দিরে রাধারাণী এবং সখীবৃন্দের উপাসনা হয় কেন?

শ্রীকৃষ্ণ ভগবান. রাধারাণী হচ্ছেন মূর্তিমতী ভক্তি. সখীবৃন্দ হচ্ছেন রাধারাণীর বিস্তার বা কায়ব্যূহ স্বরূপা. মূতিমতী ভক্তির মাধ্যমে পরমেশ্বর শ্রীকৃষ্ণকে উপলব্ধি করা সম্ভব হয়. শ্রীকৃষ্ণ বলেছেন যদি কেউ আমাকে জানতে চায় তবে তাকে অবশ্য ভক্তির আশ্রয়ে থাকতে হবে. ভক্ত্যা মাম অভিজানাতি. হরেকৃষ্ণ মহামন্ত্রে প্রথমেই 'হরে' কথাটি বলতে 'হে রাধারাণী' বা 'হে শ্রীকৃষ্ণের আনন্দদায়িনী' বা হরা শক্তিকে বোঝায়. অভিমানী ব্যক্তিরা আগে কৃষ্ণকে ভগবান মনে করে আর নিজেকেই ভক্ত মনে করে. কিন্তু শ্রীচৈতন্য মহাপ্রভু শিখিয়েছেন যাঁরা কৃষ্ণের সেবা করছেন সর্বক্ষণ সর্বভাবে তাঁদের দাসানুদাস হতে. তাই সেই নিত্য সেবাভাব পরিস্ফুট করবার জন্য শ্রীকৃষ্ণের চতুস্পার্শে তাঁর সেবাপরায়ণা শক্তি সমূহ বিরাজ করছেন. তাছাড়া কৃষ্ণ কখনও একাকী থাকতে চান না, সর্বদা তাঁর সঙ্গে কেউ না কেই থাকবেনই. অতএব সেইভাবে শ্রীকৃষ্ণ উপাসনাই পূর্ণ ও যথার্থ বলে স্বীকার্য.

দামোদর মাহাত্ম্য

** ঘৃত প্রদীপ নিবেদনের বিধি ঃ

শলিতা প্রজ্জলনের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র ঘি ব্যবহার করা উচিত অথবা তিল তৈল, তবে অন্য কোন তৈল ব্যবহার করা উচিত নয়। পূজা চলাকালীন সময় সহজ ভজন-কীর্তন করতে পারে। পরিবারের সকলে পূজায় অংশগ্রহণ করলে সবচেয়ে ভাল হয়। বামহাতে ঘন্টা বাজাতে বাজাতে ঘৃত প্রদীপটি ভগবান শ্রী দামোদরের চিত্রপটের উদ্দেশ্যে চরণে ৪বার, নাভি দেশে ২ বার, মুখ মন্ডলে ৩ বার এবং সর্বাঙ্গে ৭ বার ঘড়ির কাটার মতো ঘুরিয়ে নিবেদন করতে হবে। পঞ্চতত্ত্ব ও শ্রীল প্রভুপাদের উদ্দেশ্যে ৩ বার দেখাতে হবে। তারপর প্রদীপটি পাশে রেখে দিতে হবে এবং তা শেষ না হওয়া পর্যন্ত জ্বলবে। বাড়ির সকলকে দিয়ে একই পদ্ধতিতে ক্রমান্বয়ে ঘৃত প্রদীপ নিবেদন করতে হবে। প্রদীপ নিবেদনের সময় দামোদর অষ্টকম কীর্তন খুবই ফলপ্রদ যদিও বাধ্যতামূলক নয়। পূজার পূর্বে বা পরে ভগবান দামোদরের অপ্রাকৃত লীলা পাঠ করাও মাহাত্মপূর্ণ যদিও বাধ্যতামূলক নয়। পূজা শেষে প্রসাদ বিতরণ করাকে প্রবলভাবে উৎসাহিত করা হয় যদিও বাধ্যতামূলক নয়। মাটির প্রদীপ পুনরায় ব্যবহার করা উচিত নয়। প্রতিদিন নতুন প্রদীপ ও শলিতা ব্যবহার করতে হবে।